জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় বাংলাদেশের
 

 

টেস্ট-ওয়ানডে হারের পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় তাওহীদ হৃদয়ের বাংলাদেশের

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে ভরাডুবির পর অবশেষে জিম্বাবুয়ের মাটিতে সান্ত্বনার জয় পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে শেষ দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন তরুণ টাইগাররা।

আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য ২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে চলতি বছরের প্রথম সিরিজ জয়

চলতি জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে ১-০ ব্যবধানে এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এমনকি টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতেও ৩২ রানে হেরে ব্যাকফুটে চলে যায় দল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানে জিতে সিরিজে দুর্দান্তভাবে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। আজ শেষ ম্যাচটি জিতে ট্রফি নিশ্চিত করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এটি জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। এর আগে ২০২১ সালে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে প্রথমবার ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা। বাকি দুটি সফরের একটিতে ড্র ও অন্যটিতে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল। এছাড়া, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের সাথে ১-১ ব্যবধানে ড্র এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর চলতি বছর এটিই বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়।

তানজিদ তামিমের ফিফটি ও শেখ মেহেদির উইনিং বাউন্ডারি

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার সাইফ হাসানকে (৪) হারিয়ে হোঁচট খায় বাংলাদেশ। রিচার্ড এনগারাভার বলে পুল করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন তিনি। শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে দেখেশুনে খেলতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। পাওয়ার প্লেতে আসে ৩০ রান। অষ্টম ওভারে দলের রান পঞ্চাশ পার হওয়ার পর নবম ওভারে বিদায় নেন ইমন। সিকান্দার রাজার বলে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ২৪ রান (১ চার, ২ ছক্কা) করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সাথে তিনি ৪৭ বলে ৫৫ রানের জুটি গড়েন।

এরপর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কে সাথে নিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন তানজিদ তামিম। ৪৫ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। ১৬তম ওভারে হৃদয় আউট হন ১৯ বলে ২৪ রান করে। এরপর ১০ রান করে বিদায় নেন ইয়াসির আলী রাব্বি।

শেষ ওভারের নাটকীয়তা:

শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। ব্র্যাড ইভান্সের প্রথম বলে ১ রান নেন তানজিদ। কিন্তু পরের দুই বলে মোসাদ্দেক হোসেন (১) ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (০) দ্রুত আউট হয়ে গেলে ম্যাচটি জমজমাট রূপ নেয়। শেষ ৩ বলে যখন ৪ রান দরকার, তখন ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে কভারের ওপর দিয়ে দুর্দান্ত বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন শেখ মেহেদি হাসান। ৫৮ বলে ১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৬ রানের অনবদ্য ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ম্যাচ ও সিরিজ—উভয় সেরার পুরস্কারই ওঠে তার হাতে।

বল হাতে সাইফউদ্দিনের ২ উইকেট, ডিয়ন মেয়ার্সের ৭৩

এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার ব্যাটার ডিয়ন মেয়ার্সের ৫৩ বলে ৭৩ রানের (৭ চার, ২ ছক্কা) দুর্দান্ত ইনিংসের ওপর ভর করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন ওপেনার ব্রায়ান বেনেট (৩৮ বলে)। এই দুজন ছাড়া জিম্বাবুয়ের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩৫ রান খরচায় সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন। এছাড়া শেখ মেহেদি, রিশাদ হোসেন ও আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন ১টি করে উইকেট লাভ করেন। উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি টেনে ধরেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড

  • জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (মেয়ার্স ৭৩, বেনেট ৪৭, রাজা ৩; সাইফউদ্দিন ৪-০-৩৫-২, তাসকিন ৪-০-১৬-০, মেহেদি ৪-০-৩১-১)।

  • বাংলাদেশ: ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (তানজিদ ৬৬*, হৃদয় ২৪, ইমন ২৪; এনগারাভা ৪-০-২০-২, ইভান্স ৩.৪-০-২৬-২)।

  • ফলাফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।

  • সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

  • ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ: তানজিদ হাসান তামিম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top