৪৫ বছর পর ডিবি জালে জিয়া হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোজাফ্ফর
 

 

৪৫ বছর পর ডিবি জালে জিয়া হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফ্ফর

স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফ্ফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) মধ্যরাতে রাজধানীর বারিধারা বা মহাখালী ডিওএইচএস (DOHS) এলাকা থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আজ বিকেলে সংবাদ মাধ্যমকে এই মেগা গ্রেপ্তারের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

পলাতক জীবনের অবসান, হস্তান্তর করা হবে সেনাবাহিনীর কাছে

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করার পর সামরিক আদালতে যে বিচার (কোর্ট মার্শাল) সম্পন্ন হয়েছিল, তাতে মেজর মোজাফ্ফর হোসেনের ফাঁসির রায় হয়েছিল। কিন্তু রায় ঘোষণার পর থেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সে পলাতক জীবন পার করছিল।

ডিবির এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন:

“মেজর মোজাফ্ফর দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে ছদ্মনামে বসবাস করছিল। সম্প্রতি আমাদের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে শেষ পর্যন্ত খ পাকড়াও করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে সে ডিবি হেফাজতে রয়েছে এবং তার দীর্ঘ পলাতক জীবন ও নেপথ্যের মদদদাতাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যেহেতু সেনা আইনে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তাই ডিবি কার্যালয়ে প্রাথমিক আইনগত আনুষ্ঠানিকতা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দণ্ডিত মোজাফ্ফর হোসেনকে পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যবস্থা ও রায় কার্যকরের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।

ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় ও জিয়া হত্যাকাণ্ড

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এই ঘটনার পর সেনা আইনের অধীনে গঠিত সামরিক আদালতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যেখানে ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফ্ফর হোসেন পলাতক আসামি হিসেবে দেশের বাইরে এবং পরবর্তীতে দেশে ছদ্মনামে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। ৪৫ বছর পর এই শীর্ষ আসামির গ্রেপ্তার দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top