দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিনটি বই সংরক্ষণের দেওয়া পূর্ববর্তী নির্দেশনাটি বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৬ জুলাই ২০编制২৬) মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব রওশন আরা পলির স্বাক্ষর করা এক জরুরি অফিস আদেশে আগের সেই বিতর্কিত নির্দেশনাটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
জরুরি অফিস আদেশে যা বলা হয়েছে
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন অফিস আদেশে বলা হয়েছে:
“দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিনটি বইয়ের সমন্বয়ে এক সেট বই সংরক্ষণের জন্য গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা পত্রটি নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।”
এর আগে গত মাসের ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালককে (DG) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বা পাঠাগারে এই তিনটি বইয়ের অন্তত এক সেট করে কিনে তা বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
যেসব বই নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠাগারে রাজনৈতিক ঘরানার বই বাধ্যতামূলক করার এই উদ্যোগটি নিয়ে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। নির্দেশনায় থাকা বই তিনটি হলো:
১. ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’ — বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মরহুম লেখক মাহফুজ উল্লাহর লেখা।
২. ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ — এটিও মাহফুজ উল্লাহর লেখা জীবনীর ওপর ভিত্তি করে রচিত।
৩. ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ — বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা রাজনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী প্রবন্ধের বই।
এই তিনটি বই-ই দেশের ‘জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা’ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
সমালোচনার মুখে পিছু হটল মন্ত্রণালয়
গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক দলীয়করণ দূর করার জন্য যখন সর্বস্তরে সংস্কারের দাবি উঠছে, ঠিক তখনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বই বাধ্যতামূলক করার এই সরকারি সিদ্ধান্তটি ভালো চোখে দেখেনি সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কোমলমতি শিশুদের বিদ্যাপীঠে এ ধরনের রাজনৈতিক জীবনী বা দলীয় মতাদর্শের বই কেন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর অবশেষে এক মাসের মাথায় পূর্বের নির্দেশটি প্রত্যাহার করে পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।







