বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
 

 

বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সফরসঙ্গী ডা. জুবাইদা রহমান, কাল চীনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ (Summer Davos) সম্মেলন সফলভাবে সমাপ্ত করে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় দালিয়ান রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে রওনা হয়ে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিং রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান তিনি। সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর এই ঐতিহাসিক চীন সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ এবং বেইজিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পত্নীকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী লালগালিচা অভ্যর্থনা জানান।

দালিয়ানের ‘সামার দাভোস’ মাতিয়ে বেইজিং যাত্রা

বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে আজ সকাল ১০টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিখ্যাত ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা গ্রীষ্মকালীন দাভোস-এর বার্ষিক মূল সম্মেলনে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সংকটের এই বৈশ্বিক সংলাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বিশ্বমঞ্চের সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন:

  • ওলঝাস বেকতেনভ: কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী (যার সাথে আজ সকালেই তারেক রহমানের সফল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে)।

  • আমাদু উরি বাহ: গিনির প্রধানমন্ত্রী।

  • কিম মিন সেওক: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

  • নিয়াম ওসর উচরাল: মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

  • মিলোইকো স্পাইজিচ: মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী।

এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক দূরদর্শী, শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিশ্বখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রীষ্মকালীন দাভোসে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের এই শক্তিশালী উপস্থিতি দেশের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

সফরের মূল আকর্ষণ: ২৫ জুন লি কিয়াং ও ২৬ জুন শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক

বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে পৌঁছানোর মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই মেগা চীন সফরের মূল কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশ শুরু হলো। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে:

  • ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার): চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা (Teesta Mega Plan) বাস্তবায়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি-প্রযুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ২৬ জুন (শুক্রবার): চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক শীর্ষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশগত অংশীদারিত্ব’ (Strategic Partnership) থেকে আরও উচ্চপর্যায়ে উন্নীতকরণ এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বেইজিংয়ের সরাসরি রাজনৈতিক মধ্যস্থতা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।

গত সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার সফল সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বেইজিংয়ের এই দ্বিপাক্ষিক ও রাষ্ট্রীয় পর্ব শেষ করে আগামী ২৭ জুন তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top