সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন নিয়ে সংসদ আলোচনা স্থগিত, জামায়াতের ক্ষোভ
 

 

সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন নিয়ে সংসদে আলোচনা স্থগিত, সংসদে জামায়াতের এমপি আরমানের তীব্র ক্ষোভ

ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ক্রমাগত বর্বরোচিত সীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক পুশ-ইনের (অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ করার তৎপরতা) মতো চরম স্পর্শকাতর ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা রহস্যজনকভাবে স্থগিত করায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৪) মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।

আজ রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) বিকেলে স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তবে বাজেট অধিবেশনের ব্যস্ততা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেছেন, দ্রুতই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এর ওপর বিশদ আলোচনা হবে।

জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে: মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে বিএসএফের সীমান্ত হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্যে ঘোষিত পুশ-ইন তৎপরতা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কার্যপ্রণালি-বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী তিনি একটি সাধারণ প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছিলেন। সংসদের মূলতবি শাখা থেকে লিখিত চিঠি দিয়ে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, আজ রবিবার বিষয়টি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশন মূলতবি হওয়ার পরও রোববারের মূল কার্যসূচিতে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আজ সকালে দেওয়া নতুন সংশোধিত কার্যসূচি থেকে রহস্যজনকভাবে বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয় এবং মূলতবি শাখা থেকে তাঁকে জানানো হয় ‘অনিবার্য কারণবশত’ প্রস্তাবটি স্থগিত করা হয়েছে।

সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন:

“মাননীয় স্পিকার, দেশের ১৮ কোটি মানুষের ও সীমান্তের নিরাপত্তা আজ বিঘ্নিত। গতকালও সীমান্তে আমাদের এক যুবকের লাশ মনু নদীর চরে পড়ে ছিল। জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়—যা কোনো দলীয় অ্যাজেন্ডা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ—তাকে ‘অনিবার্য কারণবশত’ স্থগিত করতে হলো? কোন অদৃশ্য ইশারায় এটি বাদ গেল?”

একই সঙ্গে এই প্রস্তাবটি পরবর্তীতে কবে আলোচনার জন্য নির্ধারিত হবে, সংসদের কাছে তার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চান তিনি।

এটি সাময়িক পদক্ষেপ, বিষয়টিকে ‘ফান্ডামেন্টাল পার্ট’ মানলেন ডেপুটি স্পিকার

জামায়াতের সংসদ সদস্যের তীব্র প্রতিবাদের জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। নোটিশটি এই মুহূর্তে তাঁর টেবিলের সামনেই আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো স্থায়ী বাতিল নয়, বরং একটি সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র।

ডেউটি স্পিকার তাঁর ব্যাখ্যায় বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল বাজেট অধিবেশন চলছে। এ কারণে বাজেট পাস ও অর্থ বিলের ওপর সাধারণ আলোচনার জন্য সময়ের কিছু সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা বা বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুটি অত্যন্ত মৌলিক ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বা ‘ফান্ডামেন্টাল পার্ট’ হিসেবে অকপটে স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জামায়াতের সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করেন যে, বাজেট অধিবেশনের প্রধান কার্যাবলি গুছিয়ে এনে খুব শিগগিরই এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং নোটিশের ওপর সংসদে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top