জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত সুরক্ষা, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের আন্দোলন। এই অভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী বাংলাদেশ কোনো দেশের কাছেই মাথা নত করবে না বা আধিপত্য মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ জবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
“কারও আধিপত্য মানবো না—ভারতেরও না, আমেরিকারও না”
সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন:
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল সীমান্ত সুরক্ষা, স্বাধীন বৈদেশীক নীতি এবং নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার আন্দোলন হিসেবে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ কারও আধিপত্য মেনে নেবে না—ভারতেরও না, আমেরিকারও না।”
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে অনেক সাফল্য এলেও হতাশা এখনও রয়ে গেছে। জুলাই আন্দোলন কোনো ক্ষণস্থায়ী ঘটনা নয়, এটি একটি চলমান বিপ্লব। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণ রায় দিলেও গণভোটের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তরুণ ও নতুন ভোটারদের সদা সচেতন থাকতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও সরকারের প্রতি আহ্বান
জুলাই আন্দোলনে জবি শিক্ষার্থীদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন:
-
ঐতিহাসিক অবদান: বিভিন্ন জাতীয় সংকটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অপরিসীম ভূমিকা রাখলেও জাতি হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে যথোপযুক্ত স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হয়েছে।
-
বিশেষ গুরুত্বের দাবি: সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক সুবিধায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
-
১৫ জুলাইয়ের স্মৃতি: “আন্দোলনের দিনগুলোতে আমরা সবসময় জবির মিছিলের অপেক্ষায় থাকতাম। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জবির বহু শিক্ষার্থী রাজপথে রক্ত দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন।”
একই সঙ্গে উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম না করে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ
জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন:
-
আব্দুল্লাহ আল আমিন (এমপি ও রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য, এনসিপি)
-
অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন (ট্রেজারার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)
-
অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন (প্রক্টর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)
-
জাহিদ আহসান (সভাপতি, জাতীয় ছাত্রশক্তি)
-
আবু বকর মজুমদার (সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় ছাত্রশক্তি)
-
রিয়াজুল ইসলাম (ভিপি, জকসু)
-
মেহেদী হাসান হিমেল (সভাপতি, জবি ছাত্রদল)
অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।







