শ্যোন অ্যারেস্ট বন্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ দিল আপিল বিভাগ
 

 

শ্যোন অ্যারেস্ট বন্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ দিল আপিল বিভাগ: রুল ৪ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ (Shown Arrest), গ্রেফতার বা যেকোনো উপায়ে হয়রানি করা যাবে না— হাইকোর্টের দেওয়া এমন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সাথে এ বিষয়ে জারি করা মূল রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রুল

মামলা সূত্রে জানা যায়, হয়রানি বন্ধে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের পক্ষে দায়ের করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন।

হাইকোর্টের ঐ নির্দেশনায় বলা হয়েছিল:

  • গ্রেফতার বন্ধের নির্দেশ: কোনো নির্দিষ্ট মামলা বা আইনগত স্পষ্ট ভিত্তি না থাকলে আবেদনকারীদের শ্যোন অ্যারেস্ট, নতুন করে গ্রেফতার কিংবা প্রশাসনিক কোনো হয়রানি করা যাবে না।

  • রুল জারি: এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর বারবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো এবং নিছক অপমান ও নিপীড়নের উদ্দেশ্যে গুরুতর মামলায় জড়ানো কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

পরে হাইকোর্টের দেওয়া এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত ও আইনগত তাৎপর্য

আজ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশটি রহিত করে দেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনগত বৈধতা ও সাংবিধানিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন হাইকোর্টে চার সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • শ্যোন অ্যারেস্ট বিতর্ক: ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা এক মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই অন্য নতুন বা পুরনো মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম বিতর্ক রয়েছে।

  • ভারসাম্যের গুরুত্ব: রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে আসছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার সঠিক তদন্তের স্বার্থে আইন মেনে এ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অপরদিকে নাগরিক সমাজের দাবি, এর মাধ্যমে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। ফলে চার সপ্তাহ পর হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় নাগরিক অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখতিয়ারের ক্ষেত্রে বড় দিকনির্দেশনা দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top