মাঠে না থেকেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার পুরো পারিশ্রমিক বা টাকা পাচ্ছেন সোমালিয়ার তারকা রেফারি ওমর আব্দুল্লাহ আর্টান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে ফেরত পাঠানো হলেও এই রেফারির প্রতি বিশেষ সম্মান ও সহানুভূতি জানিয়ে ফিফা এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (FIFA) নিশ্চিত করেছে, চুক্তি অনুযায়ী ওমরের প্রাপ্য অর্থের এক ডলারও কাটা হবে না।
ভিসা-কাগজপত্র থাকার পরও ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, অতঃপর ফেরত
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমরের মতো একজন শীর্ষ সারির রেফারিকে বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার জন্য অফিশিয়ালি নির্বাচিত করেছিল ফিফা। সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকার সেরা রেফারির সম্মানও পেয়েছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনা করা তাঁর জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ও মাইলফলক ছিল।
কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হন ওমর। বিমান থেকে নামার পরপরই আমেরিকার ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটকে রেখে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা যাবত ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ অভিবাসন কড়াকড়ির অজুহাত দেখিয়ে তাঁর মার্কিন ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হেনস্তার শিকার হয়ে সোমালিয়ায় ফিরে যাওয়ার সময় আবেগঘন কণ্ঠে ওমর বলেছিলেন:
“আমার কাছে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ভিসাসহ সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ছিল। আমি কোনো অপরাধী নই, আমি একজন রেফারি। বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, কিন্তু নিয়তির পরিহাসে তা আর পূরণ হলো না।”
ফিফার সিদ্ধান্ত এবং ইনফান্তিনোর দুঃখ প্রকাশ
এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে খেলা হলেও ওমরের ম্যাচগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুগুলোতে নির্ধারিত ছিল। আমেরিকায় প্রবেশ করতে না পারায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও এতে ওমরের ব্যক্তিগত কোনো দোষ বা ত্রুটি ছিল না। তাই ফিফা তাঁর চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক পরিশোধ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়।
এই চরম বিতর্কিত ঘটনা প্রসঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ওমর আব্দুল্লাহর সঙ্গে বিমানবন্দরে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও হতাশাজনক। তবে একটি স্বাধীন আয়োজক দেশের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন আইন বা নিয়ম পরিবর্তন বা অমান্য করার আইনি ক্ষমতা ফিফার নেই।”
সোমালিয়ায় বীরের সম্মান
আমেরিকার মাটি থেকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত হয়ে সোমালিয়ায় ফিরে যাওয়ার পর ওমরকে সেখানে সাধারণ কোনো নাগরিকের মতো নয়, বরং জাতীয় বীরের মতো বরণ করে নেওয়া হয়েছে। সোমালিয়ার ফুটবলপ্রেমী জনগণ এবং দেশের সরকার ওমরের পাশে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশটির একটি প্রধান ফুটবল স্টেডিয়ামে জমকালো এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সোমালি সরকার তাঁকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছে।







