ইতিহাস অজিদের গুঁড়িয়ে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
 

 

মিরপুরে ইতিহাস: অজিদের গুঁড়িয়ে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ রচিত হলো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম মহাকাব্যিক এক অধ্যায়। প্রথম ম্যাচে ডকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (DLS) পদ্ধতিতে অজি বধের পর, দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে ধুলিসাৎ করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই অবিস্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে এক ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বপ্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। একই সঙ্গে এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের টানা চতুর্থ সিরিজ জয়ের এক অনন্য কীর্তি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নেমে তাসকিন-মোস্তাফিজের আগুনে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে স্তব্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। পরে বৃষ্টির কারণে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের নতুন লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৩৫ ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়ার লজ্জার রেকর্ড ও লাবুশেন-বার্টলেটের প্রতিরোধ

এর আগে মিরপুরের উইকেটে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের পেস তোপের মুখে পড়ে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখায় অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো রান (০ রান) করার আগেই প্রথম ৩টি উইকেট হারিয়ে বসে অজিরা!

প্রথম ওভারেই ম্যাট শর্টকে (০) বিদায় করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে এসে কুপার কনোলি (০) ও ম্যাট রেনশকে (০) সাজঘরের পথ দেখান কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ২৫ রানে চতুর্থ ও ৮১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে যখন অস্ট্রেলিয়া ১০০-র নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়, তখন দলের হাল ধরেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট।

সপ্তম উইকেটে এই দুজন ১০৩ রানের দুর্দান্ত এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৪১তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে প্রথমে ফিফটি করা বার্টলেটকে (৫৫) এবং পরের বলে অ্যাডাম জাম্পাকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন তাসকিন। ৪২ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ যখন ৮ উইকেটে ১৮৪ রান, তখনই মিরপুরের আকাশে হানা দেয় মুষলধারে বৃষ্টি।

বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি করে এবং স্পিনার তানভীর ইসলাম ২টি উইকেট নেন।

সৌম্য-শান্তর ভিত এবং মিরাজ-হৃদয়ের জয়োৎসব

বৃষ্টি থামার পর ডিএলএস (DLS) মেথড বা বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (০) বার্টলেটের বলে আউট হয়ে ফিরলে কিছুটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।

তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের দারুণ এক ভিত্তি গড়ে দেন দলে ফেরা সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনেই ব্যক্তিগত ৪২ রান করে যথাক্রমে রেনশ ও মেরেডিথের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৫) দ্রুত আউট হয়ে গেলে দলের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়।

১৪৪ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এই জুটির ওয়ানডে সুলভ ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৫ ওভারেই ৫ উইকেটে ১৯২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয় ৫৫ বলে ৪০ রানে এবং মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বার্টলেট, মেরিডিথ, জাম্পা, রেনশ ও গ্রিন ১টি করে উইকেট নেন।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • অস্ট্রেলিয়া: ৪২ ওভারে ১৮৪/৮ (বার্টলেট ৫৫, ইংলিস ৩৪, গ্রিন ২৫; মোস্তাফিজ ৩/৩০, তাসকিন ৩/৪১, তানভীর ২/২২)।

  • বাংলাদেশ: (লক্ষ্য ৪১ ওভারে ১৯২) ৩৫ ওভারে ১৯২/৫ (সৌম্য ৪২, শান্ত ৪২, হৃদয় ৪০*, মিরাজ ২২*; বার্টলেট ১/২৯, রেনশ ১/১১)।

  • ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী (DLS পদ্ধতিতে)।

  • সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে (সিরিজ নিশ্চিত)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top