আগামী নির্বাচনেই ফিরতে পারে আওয়ামী লীগ- এম তৌহিদ হোসেন
 

 

আগামী নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে আওয়ামী লীগ: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন

আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়নি এবং দলটির আগামী সংসদ নির্বাচনেই অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘যমুনা টেলিভিশন’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি মনে করি না যে আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব একটা দীর্ঘ নয়। আমার অনুমান—তারা খুব দ্রুতই রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং দেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনেই অংশ নেবে।”

তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ও ‘কিচেন কেবিনেট’ প্রসঙ্গ:

সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ও নীতিনির্ধারণী সংকটের কথা প্রকাশ করেন সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত থাকায় তিনি অন্তত তিনবার সরকার থেকে পদত্যাগ বা ‘কুইট’ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে বারবার বোঝানো হয় যে, এই মুহূর্তে তাঁর পদত্যাগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে একটি বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে; যার কারণে তিনি থেকে গিয়েছিলেন।

সরকারের ভেতরে প্রভাবশালী একটি মহলের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ বা ‘কিচেন কেবিনেটের’ অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “কোনো একটা বিশেষ উপলক্ষ্যে যমুনাতে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) ‘কিচেন কেবিনেটের’ একটি বৈঠকে আমাকে অংশ নিতে হয়েছিল। পরে আমি জানতে পারি যে, প্রতি মঙ্গলবার তারা নিয়মিত বসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের ভেতরে এমন একটি বিশেষ গ্রুপ আছে যারা নিয়মিত বসে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয়—এই গুঞ্জনটি আমার কানেও আসত।”

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ‘ডিপস্টেট’:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কোনো আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ ‘ডিপস্টেট’ (অদৃশ্য রাষ্ট্রশক্তি) সক্রিয় ছিল কি না—উপস্থাপকের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন একটি বৈশ্বিক সমীকরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ডিপস্টেট সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিটা বড় ঘটনার সঙ্গেই জড়িত থাকে। তবে তারা কখনো স্রোতের বিপরীতে গিয়ে কাজ করে না। তারা মূলত জনগণের বা পরিস্থিতির স্বতঃস্ফূর্ত স্রোতকে ব্যবহার করে এবং পরবর্তীতে নিজেদের এজেন্ডা অনুযায়ী তা ম্যানিপুলেট বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।”

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ক্ষোভ:

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তড়িঘড়ি করে সই করা বহুল আলোচিত ‘বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এই বিতর্কিত চুক্তির সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামান্যতম কোনো সম্পৃক্ততা বা ইনভলভমেন্ট ছিল না। এটি সম্পূর্ণভাবে করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (কমার্স মিনিস্ট্রি) এবং তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।”

তিনি আরও যোগ করেন, “নিশ্চয়ই এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো বড় কারণ বা চাপ ছিল, যার বিধায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে কোনো বড় বাধ্যবাধকতা না থাকলে, কৌশলগতভাবে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই করার বিষয়টি দেশের একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও যথাযথ হতো।”

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চিঠি প্রসঙ্গে:

ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চেয়ে দিল্লির কাছে চিঠি পাঠানো হলেও, তা যে আসলে কোনো কাজে আসবে না—সেটি তিনি আগে থেকেই জানতেন বলে স্বীকার করেন। শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চিঠির কোনো জবাব ভারত কেন দেয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমরা কি আসলেই ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক উত্তর আশা করেছিলাম? আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই কোনো উত্তর আশা করিনি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top