ত্রিশালকে ‘নজরুল স্মৃতি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
 

 

ত্রিশালকে ‘নজরুল স্মৃতি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবির জীবনবোধ, কর্ম ও বৈপ্লবিক দর্শন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে এবং তা বিশ্ব দরবারে আরও উঁচুতে তুলে ধরা প্রয়োজন। আর এই লক্ষ্যেই জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল স্মৃতি’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না—সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

ইতিহাসের স্মৃতিচারণ ও জিয়া পরিবারের অবদান:

ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে কবির জন্মজয়ন্তী পালন করতে পেরে বর্তমান সরকার গৌরব বোধ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এক ঐতিহাসিক তথ্য স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজা শেষে তাঁর মরদেহবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। শুধু তাই নয়, ১৯৭৯ সালে কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ র‍্যালিতেও অংশ নিয়েছিলেন শহীদ জিয়া।”

তিনি গুণীজনদের প্রতি যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ত্রিশালের মাটিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জাতীয় কবির প্রতি এভাবে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয় যে, গুণী মানুষকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান কমে না, বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে।”

মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা:

সমাজে কালজয়ী আদর্শগুলোর চর্চা কমে যাওয়ায় বর্তমান সমাজে তীব্র মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান হচ্ছে বলে আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের যেকোনো মূল্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে জাতীয় জীবনে বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে। আর এই আত্মশুদ্ধির লড়াইয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী ও কর্ম আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় দিকনির্দেশনা।”

বিগত প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, “দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধু দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার আর অর্থ-সম্পদই লুট করেনি, বরং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সমস্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আমাদের মনস্তাত্ত্বিক জায়গায়; ফ্যাসিবাদী সরকার এ দেশের মানুষের চিরায়ত মানবিকতা এবং আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারেই বিনষ্ট করে দিয়েছে।” তিনি এই অবক্ষয় থেকে সমাজকে মুক্ত করতে নজরুল চর্চা বাড়াতে দেশের শিক্ষক ও সংস্কৃতির সাথে জড়িতদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top