আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ
 

 

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফাইল অনুমোদনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই জোরপূর্বক একটি ফাইল নিজের কাছে নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দিয়েছিলেন ওই উপদেষ্টা, যা স্পষ্টত ‘রুলস অব বিজনেস’ ও প্রচলিত প্রশাসনিক কার্যবিধির পরিপন্থি।

শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ:

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “সম্প্রতি একটি সরকারি ফাইল আমার নজরে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একজন উপদেষ্টা (আসিফ মাহমুদ) সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়েছেন এবং নিজে সই করে তা অনুমোদন দিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।”

তিনি প্রশাসনিক নিয়ম ব্যাখ্যা করে আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের রুলস অব প্রসিডিউর এবং রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের স্বাক্ষর বা সুপারিশ ব্যতিরেকে কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টা এককভাবে কোনো ফাইল অনুমোদন করতে পারেন না। সাবেক উপদেষ্টার এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টিও চলমান সরকারি তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

পিরোজপুরে ৬ হাজার কোটি টাকার ভুয়া বিলের চিত্র:

পিরোজপুর জেলার স্থানীয় সরকার খাতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১৮ মাস ধরে জেলাটিতে বন্ধ থাকা সমস্ত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।

একই সাথে তিনি পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিগত ১৫-১৭ বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংঘটিত নজিরবিহীন অনিয়ম ও মেগা দুর্নীতি তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন। এই কমিটিকে আগামী ৬০ দিনের (দুই মাস) মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

মীর শাহে আলম জানান, প্রাথমিক তথ্যেই পিরোজপুরে এক ভয়াবহ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে মাঠপর্যায়ে কোনো বাস্তব কাজ সম্পন্ন না করেই, কেবল ভুয়া নথিপত্র ও ভুয়া বিল তৈরি করে সরকারি ট্রেজারি থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লোপাটের সাথে জড়িত সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top