বর্তমান সরকারের ভেতরে নতুন করে ‘এস আলম’ এবং ‘সালমান এফ রহমান’ হওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি করেন।
রাজধানীতে ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে দেশের সমসাময়িক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।
ঋণ সংস্কৃতি ও করপোরেট তোষণ:
বিগত সরকারের আমলের আর্থিক খাতের অনিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ব্যাংকিং খাতে বিগত ১৬ বছরে নজিরবিহীন লুটপাট এবং দুর্নীতি হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও পরিবারকেই বিশাল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে।” বর্তমান প্রশাসনের কাছে এই সংস্কৃতির অবসান প্রত্যাশা করলেও পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এই সরকারের ‘এস আলম’ কে হবে আর ‘সালমান এফ রহমান’ কে হবে—তা নিয়ে ভেতরে ভেতরে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।”
ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিকভাবে উপদেষ্টা কমিটিতে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এভাবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করা যায় না। ঋণ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, “বড় বড় করপোরেট গোষ্ঠী রাজনৈতিক লবিংয়ের মাধ্যমে ঋণ পায় এবং তা শোধ করে না। অথচ একজন কৃষকের মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ঋণ হলে, তা পরিশোধ না করতে পারলে তার কোমরে দড়ি বেঁধে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।”
বিদেশি বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক স্থবিরতা:
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনার আগে দেশীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করা জরুরি ছিল। সরকারের আগের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকারের লোকেরা বলেছিল নির্বাচিত সরকার এলেই বিদেশি বিনিয়োগ হুহু করে আসবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, ডক্টর ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাধ্যমে অর্থ আনার ক্ষেত্রে যতটুকু সক্ষমতা দেখিয়েছিলেন, বর্তমান সরকার কোনো দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ন্যূনতম দাওয়াত পর্যন্ত পায়নি। এমনকি আইএমএফের (IMF) ঋণও এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”
বাজেট ও জুলাই সনদ নিয়ে ক্ষোভ:
সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না বা এই আলোচনাকে গুরুত্ব দেবে না—এমন সন্দেহ প্রকাশ করেই এনসিপি এই ‘ছায়া বাজেট’ প্রণয়ন করছে বলে জানান তিনি। একটি সংস্কারমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেটের দাবি জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “অর্থনৈতিক সংস্কার রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু প্রথম অধিবেশনেই আমরা দেখলাম, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে দেওয়া নিজেদের মূল প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করেনি।”
তবে দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেবল সরকারের একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সংকটের টেকসই সমাধানে অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারকে যেকোনো গঠনমূলক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।







