দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং অগ্রগতির পথ সুগম করতে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীদের সরাসরি মাঠে নামার এবং শক্তিশালী জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না যদি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকে। তিনি বলেন, “রাজনীতি হওয়া উচিত সংসদে, শুধু রাজপথে হৈচৈ করে দেশ গড়া যায় না। কিছু গড়ার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ ও আলোচনার প্রয়োজন।” এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়াসহ সব মাধ্যমে স্থিতিশীলতার পক্ষে জনমত তৈরি এবং যেকোনো ধ্বংসাত্মক কাজের প্রতিবাদ করার পরামর্শ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন যে, তারাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের আরও শক্ত ও সচেতন হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন, যা বিশ্ববাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে। সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষাশিক্ষা ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো উদ্যোগ নিয়েছে যার সুফল দীর্ঘমেয়াদে জাতি ভোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়াও বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বালিশ কাণ্ড’ ও মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ পাচারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৮০ হাজার টাকার বালিশে কি আদৌ ঘুমানো সম্ভব?
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং ১৭ জন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পান। সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ।







