১৮ মাস মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব শেষে ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী
 

 

মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব শেষে ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

বিগত ২০২৪ সালে দেশের চরম ক্রান্তিলগ্নে মাঠপর্যায়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখন ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “দেশের ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীর এই ঐতিহাসিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জাতি সবসময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এই মন্তব্য করেন।

পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার প্রশংসা:

দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ের কঠিন দায়িত্ব পালনের পরও সেনাসদস্যদের কঠোর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং উচ্চমানের প্রশিক্ষণ দক্ষতা ধরে রাখার ভূয়সী প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, “টানা ১৮ মাস মাঠপর্যায়ের কঠোর ডিউটি করার পরও চলমান এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় সেনাসদস্যরা লক্ষ্যভেদের যে অসামান্য পারফরম্যান্স ও দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অভূতপূর্ব ও গর্বের।”

তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময়ই যুদ্ধ প্রস্তুতি, নিয়মানুবর্তিতা এবং পেশাগত উৎকর্ষের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে থাকে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনী সর্বদা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ফায়ারিং প্রতিযোগিতার খুঁটিনাটি:

সেনাসূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই ঐতিহ্যবাহী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল।

  • অংশগ্রহণকারী দল: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

  • মূল্যায়ন প্রক্রিয়া: দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতায় লক্ষ্যভেদ (Targeting), দ্রুত প্রতিক্রিয়া (Quick Reaction), সমন্বিত ফায়ারিং এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতি সিমুলেশনের (Combat Simulation) মতো অত্যন্ত জটিল ও যুদ্ধকালীন সামরিক কৌশলগুলো নিখুঁতভাবে যাচাই করা হয়।

  • ফলাফল: তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে নিখুঁত লক্ষ্যভেদের মাধ্যমে ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে, বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার স্থান অধিকার করে।

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডন্যান্স (এমজিও), বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার (কুমিল্লা), ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার (সিলেট) সহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ফরমেশনের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সামরিক কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের নিয়মিত আয়োজন সেনাসদস্যদের মাঝে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি, মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল চর্চায় প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top