পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে। প্রণালীতে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের রণতরী মোতায়েনের সাম্প্রতিক ঘোষণায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তেহরান এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে তারা ‘অপ্রতিরোধ্য ও তাৎক্ষণিক’ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ’ কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ফ্রান্স, ব্রিটেন বা অন্য কোনো দেশের রণতরীর উপস্থিতি ইরান কোনোভাবেই সহ্য করবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এমন যেকোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দিতে প্রস্তুত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে, যখন ফ্রান্স জানায় যে তাদের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গোল’ (Charles de Gaulle) হরমুজ প্রণালীর দিকে যাত্রা শুরু করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই মিশনকে ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার’ এবং জাহাজ মালিকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার একটি রক্ষণাত্মক প্রচেষ্টা হিসেবে দাবি করেছেন। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা এবং তাদের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত চলমান সংঘাত থামবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সক্ষমতা কমানো হলেও এখনও অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এবং হরমুজ প্রণালীতে পশ্চিমা রণতরীর উপস্থিতি বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







