সাংবাদিক, ব্লগারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাইবার মামলা করলেই বাদীর জেল
 

 

সাংবাদিক, ব্লগারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাইবার মামলা করলেই বাদীর জেল; কার্যকর হলো ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’

সাংবাদিক, ব্লগার কিংবা সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাইবার মামলা করে পার পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কার্যকর হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া মাত্রই ভুক্তভোগী ব্যক্তি সরাসরি মূল অভিযোগকারী বা বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার পাবেন। শুধু তাই নয়, এই আইনে মিথ্যা মামলায় সহায়তাকারীদের জন্যও মূল অপরাধীর সমান সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি আদালত বা ট্রাইব্যুনাল চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু করতে পারবেন।

নতুন আইনের কঠোর অবস্থান:

গত ১০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই আইনের ২৮ ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়েরের প্রতিকার ও দণ্ড অত্যন্ত স্পষ্ট করা হয়েছে।

  • সরাসরি মামলার সুযোগ: ন্যায্য কারণ ছাড়া কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মামলা করলে ভুক্তভোগী সরাসরি ওই বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

  • সমপরিমাণ দণ্ড: মিথ্যা মামলাকারী ঠিক সেই পরিমাণ সাজাই ভোগ করবেন, যা মূল কথিত অপরাধের জন্য নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ, কোনো গুরুতর ধারায় কাউকে ফাঁসাতে গিয়ে ব্যর্থ হলে বাদীকে সেই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে।

  • সহায়তাকারীর সাজা: আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী, যারা মিথ্যা মামলা দায়ের করতে উসকানি বা সহায়তা দেবেন, তারাও মূল অপরাধীর সমান দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

মুক্তমত রক্ষায় সরকারের নিশ্চয়তা:

সংসদে বিলটি পাসের সময় কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ মুক্তমত দমনে এই আইনের অপব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। এর জবাবে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, আইনের অপব্যবহার রোধেই ২৮ ধারায় বাদীর শাস্তির বিধান কঠোর করা হয়েছে, যাতে কেউ এই আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।

আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত:

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বাহাউদ্দিন ইমরান এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মতে, প্রচলিত দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ ও জটিল। কিন্তু নতুন আইনের ২৮ ধারায় সেই সীমাবদ্ধতা নেই; এখানে ট্রাইব্যুনাল সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে। এমনকি তদন্ত কর্মকর্তা যদি কাউকে অভিযোগ থেকে বাদ দেন, তবে সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিও দ্রুত প্রতিকার পাবেন। তবে ব্লগার ও সচেতন মহল মনে করছে, শুধু লেখককে নয়, বরং যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে লেখাকে বিকৃত করে ‘মব’ তৈরি করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাদেরও এই আইনের আওতায় এনে প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top