মার্কিন বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে পোশাক রফতানিতে ২য় বাংলাদেশ
 

 

মার্কিন বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে চীনকে আবারও পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। বাণিজ্যযুদ্ধ, উচ্চ শুল্কহার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের ফলে মার্কিন বাজারে চীনের রফতানি ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২০৪ কোটি ডলারের। বিপরীতে, একই সময়ে চীনের রফতানি নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭০ কোটি ডলারে। গত বছরের তুলনায় চীনের রফতানি কমেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে মাত্র ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ হ্রাস পেলেও, চীনের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক বেশি স্থিতিশীল রয়েছে।

কেন পিছিয়ে পড়ছে চীন:

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর ‘চীন প্লাস ওয়ান’ (China Plus One) কৌশলের কারণে চীনের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমছে। অন্যদিকে, বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং শক্তিশালী ডেনিম ও নিটওয়্যার খাতের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, বাজার সংকুচিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক বার্তা।

প্রতিযোগিতায় অন্যান্য দেশ:

মার্কিন বাজারে বর্তমানে ৩৯৮ কোটি ডলারের রফতানি নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। তবে ভারতের রফতানিতে ২৭ শতাংশের বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়া ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমানে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশকে তুলনামূলক কম মুনাফায় পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে।

খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যের এই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখন শুধু একটি বিকল্প কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অন্যতম প্রধান নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী দেশে পরিণত হচ্ছে। তবে এই অবস্থান ধরে রাখতে হলে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top