ট্রাফিক আইন ভাঙলে অটো-জেনারেটেড মামলা, বসছে এআই ক্যামেরা
 

 

ট্রাফিক আইন ভাঙলে এবার অটো-জেনারেটেড মামলা; ঢাকার ২৫ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা এবং উন্নত সিগন্যাল লাইট ব্যবহারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুরু হয়েছে। এই প্রযুক্তির আওতায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের ভিডিও ও স্থিরচিত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে।

নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও সুবিধা:

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে যে, শাহবাগ, বাংলামোটর, কাওরান বাজার এবং বিজয় সরণিসহ রাজধানীর মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই এআই-নির্ভর ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

  • স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ: লাল বাতি অমান্য করা, উল্টো পথে চলা, অবৈধ পার্কিং এবং স্টপ লাইন অতিক্রমের মতো অপরাধগুলো ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করছে।

  • যানজট হ্রাস: আগে পস (POS) মেশিনে মামলা দিতে গিয়ে গাড়ি থামানোর ফলে সড়কে যে কৃত্রিম জটলা তৈরি হতো, এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তার আর প্রয়োজন পড়ছে না।

  • নির্ভুল তথ্য ব্যবস্থাপনা: কাগজের স্লিপে অস্পষ্ট লেখা বা কাটাকাটির সমস্যা দূর করে এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ভুল ফুটেজ সংরক্ষিত হচ্ছে।

মামলা ও জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া:

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত গত তিন দিনে প্রায় ২০০টি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ফুটেজ রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ফুটেজ বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে:

১. গাড়ির মালিকের মোবাইলে এসএমএস (SMS) পাঠানো হবে এবং ডাকযোগে বাসার ঠিকানায় মামলার নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হবে।

২. যদি কারো ঠিকানা পরিবর্তিত হয়ে থাকে, তবে বিআরটিএ-তে থাকা তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩. জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার জন্য চালক বা মালিককে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় প্রদান করা হবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও পরবর্তী পদক্ষেপ:

প্রযুক্তিগতভাবে এই ব্যবস্থা উন্নত হলেও কিছু জটিলতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে যেসব যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট, ভাঙা কিংবা নেই, সেগুলো শনাক্ত করতে এআই ক্যামেরা হিমশিম খাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে ডিএমপি শীঘ্রই একটি দ্বিতীয় দফায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে যাচ্ছে, যাতে প্রতিটি যানবাহনে স্পষ্ট নম্বর প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা থাকবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তিগত সংষ্কার অব্যাহত থাকবে বলে ডিএমপি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top