জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১০ মে দলটির পক্ষ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার এই অনুষ্ঠানে তিনি জানান যে, সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতেই প্রতিটি স্থানে আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ার এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সারজিস আলম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিকভাবে এপ্রিলের শেষ নাগাদ ১০০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণার কথা থাকলেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতির কারণে সেই সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে ১০ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শুধু উপজেলা বা পৌরসভা নয়, চলতি মে মাসের মধ্যেই দেশের সাতটি সিটি করপোরেশনে এনসিপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে ১১ দলীয় জোটে থেকে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করলেও নিজেদের রাজনৈতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে স্থানীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে লড়তে চায় দলটি।
একই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সারজিস আলম অভিযোগ করেন যে, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নিয়ে যাওয়ার একটি নীল নকশা তৈরি করছে। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এই প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। এমনকি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন। এমতাবস্থায়, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চলতি বছরের মধ্যেই সব পর্যায়ের স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানান এই এনসিপি নেতা।







