যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া দুই মেধাবী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে ফ্লোরিডা পুলিশ। বৃষ্টির মরদেহ এখনও উদ্ধার না হলেও লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মর্মান্তিক এই সংবাদে লিমনের বাড়ি নোয়াখালী এবং বৃষ্টির বাড়ি মাদারীপুরে শোকের মাতম চলছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে হিলসবরো কাউন্টি পুলিশ। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবুঘরবেহ ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক শিক্ষার্থী।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলো ঘাতক:
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানায়, আবুঘরবেহকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে পারিবারিক সহিংসতার জেরে ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। গ্রেপ্তারের আগে তাঁকে দুবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি অসহযোগিতা শুরু করেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার), প্রমাণ নষ্ট এবং মরদেহ অবৈধভাবে সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মেধাবী বৃষ্টির পরিবারের কান্না:
মাদারীপুরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, গত বৃহস্পতিবার ল্যাবে কাজ করার সময় মেয়ের সাথে শেষ কথা হয়েছিল তাঁর। বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং বুয়েট থেকে স্নাতকোত্তরে থাকাকালীন ফুল স্কলারশিপে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ফেসবুকে তাঁর বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও পুলিশ এখনও মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। পরিবারের দাবি, দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
লিমন-বৃষ্টির সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্তি:
গণমাধ্যমে লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলা হলেও বৃষ্টির বাবা তা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, লিমন ও বৃষ্টি একে অপরের ভালো বন্ধু ও সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁরা দুজনেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং দেশের জন্য বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন।
মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর এমন পরিণতিতে কেবল তাঁদের পরিবার নয়, পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার জানিয়েছেন, এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।







