ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও আইনি জটিলতায় আটকে আছে চূড়ান্ত ফলাফল। প্রার্থীদের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলার কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই দুই আসনের ফলাফল স্থগিত রেখেছে। আদালত থেকে নির্দেশনা আসার পর আগামী ২৮ এপ্রিল এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের আইন শাখা থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচনের সব কার্যক্রম শেষ হলেও ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ড আসনের গেজেট প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে এই দুই আসনের ভাগ্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও আইনি মারপ্যাঁচে আটকে আছেন বিজয়ী প্রার্থীরা।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের পরিস্থিতি:
ফটিকছড়ি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে সারোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন জামায়াত প্রার্থী। যদিও আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, তবে শর্ত ছিল যে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ করা যাবে না।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের পরিস্থিতি:
সীতাকুণ্ড আসনেও একই রকম চিত্র দেখা গেছে। এখানে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থী ও যমুনা ব্যাংক মামলা দায়ের করে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করলেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।







