বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট ও কতিপয় ব্যক্তির অতি-মুনাফার লোভে দেশের মানুষকে জিম্মি হতে দেবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই কথা জানান।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে খাদ্যপণ্যের দামে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কিঞ্চিৎ বাড়লেও সেটির প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবে।
সামাজিক সুরক্ষা ও টিসিবি কার্যক্রম:
দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রয় এবং ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন দুই ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, “সরকারের শক্তিশালী সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রাম রয়েছে, যার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
বাজার মনিটরিং ও সয়াবিন তেলের সংকট:
বাণিজ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বোতলজাত তেলের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আমদানিকৃত নিত্যপণ্যের মজুদ সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কোনো প্রকার গুজবে কান না দিয়ে বা অহেতুক পণ্য মজুদ না করার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সংবাদকর্মীদেরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।







