ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম নাটকীয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ইঙ্গিত দিলেও, তেহরান একে ‘একপাক্ষিক দাবি’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই বৈপরীত্য উঠে এসেছে।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের চুক্তি সই হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এবং আজই ইসলামাবাদে তা সম্পন্ন হতে পারে। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে তিনি জানান, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের লক্ষ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করলেও এর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানের অনড় অবস্থান:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তার বিপরীতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের মনে ‘গভীর ঐতিহাসিক অবিশ্বাস’ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের স্ববিরোধী অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, তারা ইরানের উন্নয়ন নয় বরং আত্মসমর্পণ চায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইরানের জনগণ কোনোদিন চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং যেকোনো আলোচনার ভিত্তি হতে হবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা।”
প্রতিনিধি দলের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি:
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দ্বিতীয় ধাপের শান্তি আলোচনা নিয়ে তাদের এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। তবে পাকিস্তানের মাটিতে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইরান বিবেচনা করছে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেয়নি তেহরান। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।







