কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে দেশের ছয় জেলায় বজ্রাঘাতে ১২ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই কৃষক, ২ জন জেলে এবং ১ জন কলেজ শিক্ষার্থী।
দেশজুড়ে চলমান কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে প্রবল বজ্রপাতে আজ শনিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা। বোরো ধান কাটার মৌসুমে হাওরাঞ্চলে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে সেখানে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও রংপুর ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে ১ জন করে মারা গেছেন।
জেলাভিত্তিক মৃত্যুর বিবরণ:
-
সুনামগঞ্জ: জেলার ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও দিরাই উপজেলায় পৃথক ঘটনায় ৫ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রহমত উল্লাহ (১৫) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী রয়েছেন, যিনি বাড়ির পাশে ধান শুকাতে গিয়ে প্রাণ হারান। অন্য ৪ জন কৃষক হাওরে ধান কাটার সময় মারা যান।
-
রংপুর: মিঠাপুকুর উপজেলার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে মিলন রায় ও আবু তালেব নামে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
-
ময়মনসিংহ: গৌরীপুর ও গফরগাঁওয়ে বজ্রাঘাতে কৃষক রহমত আলী ও মমতাজ আলী নামে দুজনের মৃত্যু হয়। মমতাজ আলী জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন।
-
নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ: নেত্রকোনার আটপাড়া, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে ৩ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি সহায়তা ও সতর্কতা:
সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) জানিয়েছেন, নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্যের জন্য সরকারি পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কালবৈশাখীর এই মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ বা জলাশয় থেকে দূরে থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য কৃষকদের বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।







