ইতালি গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নুল্লা ওস্তা (Nulla Osta) ভেরিফিকেশন এবং ভিএফএস (VFS) অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও দালালের দৌরাত্ম্য নিরসনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া পরীক্ষামূলক ডিজিটাল পদ্ধতিটি ২০২৬ সালে এসে আরও শক্তিশালী ও নির্ভুল রূপ ধারণ করেছে। এখন থেকে আবেদনকারীরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য ছাড়াই সরাসরি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে তাদের ফাইলের সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
ইতালিতে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা হাজারো মানুষের কাছে নুল্লা ওস্তা যাচাই এবং ভিএফএস-এর সিরিয়াল পাওয়া ছিল এক দুঃস্বপ্নের নাম। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন ডিজিটাল যুগে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ভিএফএস গ্লোবাল এবং ইতালি দূতাবাসের সমন্বিত উদ্যোগে চালু হওয়া উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করেই পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
এই আধুনিক ব্যবস্থার সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘লাইভ ট্র্যাকিং’ সুবিধা। গত বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া সাধারণ ওয়েব-ফর্ম পদ্ধতিটি এখন সরাসরি ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে একজন আবেদনকারী কেবল তার পাসপোর্ট নম্বর এবং নুল্লা ওস্তা কোড ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে মুহূর্তের মধ্যে তার ফাইলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারছেন। এতে করে জাল বা এডিট করা নুল্লা ওস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
সিস্টেমটির আরেকটি অভাবনীয় দিক হলো এর দ্রুতগতি। যদি কোনো আবেদনকারীর তথ্য শতভাগ নির্ভুল থাকে, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংক্রিয় প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে মাত্র সাত কার্যদিবসের মধ্যেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্ম করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো বা দালালের পেছনে লাখ টাকা খরচ করতে হতো, এখন সেখানে মাত্র এক সপ্তাহেই সমাধান মিলছে। এছাড়া আবেদনকারীর ফাইলটি এই মুহূর্তে দূতাবাসের কোন টেবিলে আছে বা ভিসা ইস্যু হয়েছে কি না, তার প্রতিটি ধাপ এখন ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা এবং কনসুলার সেবা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে বলছেন যে, এই স্বচ্ছ সিস্টেম চালুর ফলে দালালেরা এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তারা হয়তো সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বলতে পারে যে ‘অনলাইন সিস্টেম কাজ করছে না’ কিংবা ‘ভেতরের লোক দিয়ে কাজ করিয়ে দেওয়া হবে’। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথায় কান না দিয়ে নিজের নুল্লা ওস্তা নিজে ট্র্যাকিং করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মূলত পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সরাসরি সার্চ করার সুবিধা থাকায় এখন আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বা ইমেইল চালাচালির কোনো প্রয়োজন নেই। স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে ইতালিতে পাড়ি জমানোর পথ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও সহজতর হয়েছে।
সূত্র:







