হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি. আপনার শিশুর সুরক্ষায় জরুরি তথ্য
 

 

হামের জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬: আপনার শিশুর সুরক্ষায় যা জানা অপরিহার্য

দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার আগামীকাল ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। এই জরুরি ক্যাম্পেইন এবং হামের টিকা (Measles Vaccine) সংক্রান্ত সাধারণ মানুষের মনে জাগা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনার আলোকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

সারা দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আগামীকাল রবিবার থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে। এই ক্যাম্পেইনকে ঘিরে অভিভাবকদের মনে অনেক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে কোন বয়সের শিশু টিকা পাবে, অন্য টিকার সাথে এর ব্যবধান কেমন হবে এবং টিকার কার্যকারিতা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে।

প্রথমেই জানা প্রয়োজন, এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আপনার শিশু আগে হামের টিকা দিয়ে থাকলেও বা এক ডোজ পূর্ণ করে থাকলেও এই ক্যাম্পেইনের অতিরিক্ত ডোজটি গ্রহণ করতে পারবে। তবে যাদের বয়স এখনো ৬ মাস পূর্ণ হয়নি, তাদের এই টিকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকদের মতে, ৬ মাসের কম বয়সী শিশুরা সাধারণত মায়ের শরীর থেকে এবং পরবর্তীতে বুকের দুধের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পেয়ে থাকে, তাই এই সময়ে অতিরিক্ত টিকার প্রয়োজন পড়ে না।

যেসকল শিশুর বয়স ১৫ মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে এবং যারা ইতিপূর্বে এমআর (MR) টিকার দুটি ডোজ সম্পন্ন করেছে, তারা এই সময়ে একটি বুস্টার ডোজ হিসেবে এই টিকা নিতে পারবে। আবার যারা আগে কখনোই হামের টিকা নেয়নি, তাদের জন্য এই সুযোগে অন্তত দুটি ডোজ সম্পন্ন করা জরুরি। অনেক অভিভাবক ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা প্রাইভেট ক্লিনিকে এমএমআর (MMR) টিকা দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রেও বর্তমান ক্যাম্পেইনের টিকা নিতে কোনো বাধা নেই।

টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি কোনো শিশু গত ২৮ দিনের মধ্যে নিয়মিত ইপিআই (EPI) শিডিউলের অধীনে হামের প্রথম ডোজ (৯ মাসে) নিয়ে থাকে, তবে তাকে এখনই ক্যাম্পেইনের টিকা দেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে ২৮ দিন পূর্ণ হওয়ার পর নিয়মিত সূচি অনুযায়ী ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজটি দিলেই চলবে। তবে পেন্টা বা অন্য কোনো নিয়মিত টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ২৮ দিনের বাধ্যবাধকতা নেই; অর্থাৎ পেন্টা টিকা নেওয়ার কয়েকদিন পরই শিশু হামের টিকা নিতে পারবে।

বর্তমানে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি বা কাশির সমস্যা থাকলে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তীব্র ইনফেকশন বা বেশি জ্বর থাকা অবস্থায় শিশুকে টিকা না দিয়ে আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশু সুস্থ হলে তারপর টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া উত্তম।

সবশেষে টিকার মান ও প্রাপ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই ভ্যাকসিনগুলো আন্তর্জাতিক জোট ‘গাভি’ (GAVI) থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত। তাই কোনো প্রকার অপপ্রচার বা গুজবে কান না দিয়ে আপনার এবং আপনার প্রতিবেশী শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এই জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top