রেমিট্যান্সের জোয়ার ও রিজার্ভের স্বস্তি: শক্তিশালী হচ্ছে দেশের অর্থনীতি - Peoples News
 

 

রেমিট্যান্সের জোয়ার ও রিজার্ভের স্বস্তি: শক্তিশালী হচ্ছে দেশের অর্থনীতি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বইছে সুবাতাস। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক ডলার ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ এখন বেশ মজবুত অবস্থানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রবর্তিত বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুসরণ করলে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮.৫১ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আমদানির দায় মেটানো এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে সক্ষমতা বাড়াবে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসটি রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। ১ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ২৯ দিনেই দেশে এসেছে ৩.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০.৬ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ জুলাই থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ১৬.০৮ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে ২৯ ডিসেম্বর এক দিনেই দেশে এসেছে ১০৫ মিলিয়ন ডলার, যা রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী গতিরই বহিঃপ্রকাশ।

বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এবং ডলারের কৃত্রিম সংকট এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ৩০ ডিসেম্বর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ৮৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর ফলে ডিসেম্বর মাসজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.০১ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত মোট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই কৌশলগত পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা কমিয়ে ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

সামগ্রিকভাবে, অর্থনীতির এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হলে রেমিট্যান্সের প্রবাহকে ধরে রাখা এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য। যদিও রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে, বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে আইএমএফ নির্ধারিত বিপিএম–৬ পদ্ধতিই দেশের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতার প্রধান মাপকাঠি। তাই আমদানির চাপ সামলানোর পাশাপাশি নিট রিজার্ভের পরিমাণ আরও বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক সমৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফেরাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top