ইউনুস মোদি বৈঠক

খোলা চিঠিতে ড. ইউনূসকে ফাতিহা আয়াতের প্রশ্ন

সংবাদ ডেস্ক

নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আসবে কি না—এই প্রশ্ন তুলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন পরিবেশবাদী, লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী ফাতিহা আয়াত।

বর্তমানে ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন ড. ইউনূস। সেখানে আজ (৪ এপ্রিল) তার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ফাতিহা তার ফেসবুক পেজে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।

ইউনুস মোদি বৈঠক
ইউনুস মোদি বৈঠক

চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ভারতীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ কি ভারত-বিদ্বেষ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত?” তিনি মনে করেন, যৌক্তিক সমালোচনাকে বিদ্বেষ হিসেবে আখ্যা দেওয়া এক ধরণের চেপে রাখা মনোভাব।

ফাতিহা চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, ‌“অসম জলবণ্টন, সীমান্তে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড, বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতি, ট্রানজিট সুবিধার অপব্যবহার, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বিগত ৫৩ বছর ধরে আলোচনা থেকে বঞ্চিত।”

তিনি প্রশ্ন করেন, “এইবার কি সেসব আলোচনার টেবিলে আসবে? নাকি আবারও কূটনৈতিক সৌজন্যের আড়ালে বাস্তবতা উপেক্ষিত থাকবে?”

চিঠির এক অংশে ফাতিহা বলেন, “আমি জানি, আমার মতো একজন সাধারণ নাগরিকের এই প্রশ্নগুলোর গুরুত্ব অনেকের কাছে তুচ্ছ মনে হতে পারে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, একজন নোবেল বিজয়ী ও দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আপনি জনগণের এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকারকে সম্মান করবেন।”

এই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে এ উদ্যোগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top