সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সৃষ্ট শূন্য পদে জাতীয় সংসদের আগামী সেপ্টেম্বর মাসের নিয়মিত অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এর জন্য আলাদাভাবে জরুরি বা বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো কোনো সাংবিধানিক প্রয়োজন বা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর সিআইডিআরডিএপি (সিরডাপ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
“বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন নেই, নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন সেপ্টেম্বরে”
সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতির স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন এবং কবে নির্বাচন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন:
“সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের যে নিয়মিত অধিবেশন বসবে, সেই অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এই মুহূর্তে বিশেষ অধিবেশন ডেকে তড়িঘড়ি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি হয়নি।”
সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা মামলা প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “সাবেক রাষ্ট্রপতির মামলা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।”
তবে চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের সময়ে আহত ৮ জন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে যদি মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তাঁর নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে দাখিল করেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
তিন সরকারপ্রধানকে শপথের ঐতিহাসিক রেকর্ড
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নির্ধারিত ৫ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই জটিল স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
তাঁকে বিদায় জানানো পর্যন্ত সময়কাল ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল অধ্যায়। তাঁর মেয়াদকালেই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, পরবর্তীতে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সবশেষে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমল প্রত্যক্ষ করেছে দেশ। একক মেয়াদে দেশের তিনজন আলাদা সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করানোর এক বিরল ও ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী ছিলেন তিনি।







