তৈরি পোশাক খাতের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ ডিজাইন শিল্পকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পরবর্তী প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত দু দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
“২০২৬ সালেই গ্লোবাল বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই”
সামিটে বৈশ্বিক প্রযুক্তিবাজারের বিপুল আর্থিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্স, স্যাটেলাইট, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে চিকিৎসা সরঞ্জামের মূল ভিত্তিই হলো সেমিকন্ডাক্টর চিপ।
-
বিশ্ববাজারের সুযোগ: ২০২৬ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই বিশাল ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে বাংলাদেশের দক্ষ মেধার সুযোগ উন্মোচিত হবে।
-
২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা: আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ পুরোপুরি সক্ষম হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।
প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ঘোষণা
সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি ‘জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করে ইন্ডাস্ট্রি ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী:
-
শুল্ক প্রত্যাহার: চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
-
নগদ প্রণোদনা: সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর সরকার বিশেষ নগদ প্রণোদনা প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
-
৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’: নতুন প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ চালু করা হয়েছে, যার বণ্টন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
-
অবকাঠামো উন্নয়ন: বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে শুল্কমুক্ত (বন্ডেড) সুবিধা, হাই-টেক পার্ক আধুনিকায়ন এবং নতুন একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ পরিদর্শণ
‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (BSIA), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ‘সিলিকন রিভার বাংলাদেশ’ যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সামিটের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এর মোট ৩৫টি স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এসব স্টলে দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), রোবোটিক্স এবং ডিপ-টেক (Deep-Tech) প্রযুক্তির প্রদর্শনী প্রদর্শিত হয়।







