দিল্লির রাজপথ থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি (Gen Z) আন্দোলনকারীদের সব দাবি অবশেষে মেনে নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। শনিবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর বিকেলে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিনিধিদলের সাথে কেন্দ্র সরকারের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বাকি সব দাবি মেনে নেওয়ার লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর থেকে দীর্ঘ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
কেন্দ্রের সাথে বৈঠক ও সুনির্দিষ্ট চুক্তি
শনিবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে কেন্দ্র সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা সহ জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর সিজেপি নেতৃত্ব নিশ্চিত করে যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি তাদের বাকি দুটি প্রধান দাবিও কেন্দ্র সরকার নিঃশর্তভাবে মেনে নিয়েছে।
মেনে নেওয়া চূড়ান্ত দাবিসমূহ:
-
১. আইনি সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহার: চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা সমস্ত ফৌজদারি মামলা ও এফআইআর (FIR) অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে। ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা হয়রানি করা হবে না বলে লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
-
২. আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ: নিট (NEET) পরীক্ষা বাতিল ও অনিয়মের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারকে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক নিয়ম মেনে ১ কোটি রুপি (প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলার) পর্যন্ত অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।
‘বাড়ি ফিরে যান’: যন্তর মন্তরে আন্দোলন প্রত্যাহারের নির্দেশ
বৈঠক শেষে সিজেপির অন্যতম শীর্ষ সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারী নেতা সৌরভ দাস যন্তর মন্তরে অপেক্ষারত লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
“মোদি সরকার আমাদের সকল দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নিয়েছে। এটি সাধারণ শিক্ষার্থী ও তরুণদের মেধা ও প্রতিবাদের ঐতিহাসিক বিজয়। আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, তাই সকল আন্দোলনকারীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি—আপনারা এবার নিজ নিজ ঘরে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান।”
একই সভায় সরকারের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান:
“তরুণ প্রজন্মই দেশের মূল শক্তি। আমাদের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার কঠোর বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। সরকার তাঁদের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ দায়বদ্ধ।”
ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ ও চার সপ্তাহ পর পরবর্তী বৈঠক
যন্তর মন্তরের মূল সমাবেশস্থল ও রাজপথ থেকে আন্দোলন সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হলেও সরকারের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সংস্কার পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘোষিত পদক্ষেপগুলো সরকারিভাবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে আগামী চার সপ্তাহ (১ মাস) পর পুনরায় কেন্দ্রের সাথে বৈঠকে বসবেন তারা।







