ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ রাজপথের যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, মতবিনিময় ও নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে এটিই তার প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক হাইভোল্টেজ বৈঠক।
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক ও সৌজন্য বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও বিএনপির মিডিয়া সেল বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
টেবিলে টেবিলে কুশল বিনিময়
সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার মুক্ত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রতিটি টেবিলে গিয়ে আন্দোলনকালীন শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মতবিনিময়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
[যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলসমূহ]
│
▼
[রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক ও নৈশভোজ]
│
┌──────────────┼──────────────┐
▼ ▼
[রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও] [জাতীয় সরকার ও ভবিষ্যৎ]
[সংসদীয় বিষয়ে আলোচনা] [রাষ্ট্রীয় অংশীদারিত্ব]
বৈঠকের সম্ভাব্য এজেন্ডা ও গুরুত্ব
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেবল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই বৈঠকটি সীমাবদ্ধ থাকছে না। এতে মূল কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে:
-
জাতীয় সরকার গঠন ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন: আন্দোলনকালে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া “একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে সরকার” শীর্ষক প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচন-উত্তর জাতীয় সরকার গঠনে শরিকদের অংশীদারিত্বের অগ্রগতি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
-
রাজনৈতিক ভারসাম্য ও অসন্তোষ নিরসন: নির্বাচন এবং আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে মিত্রদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শরিকদের বার্তা দিচ্ছেন।
-
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা: দেশের বর্তমান সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম এবং যুগপৎ আন্দোলনের আসল লক্ষ্য অর্জনে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মিত্রদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে মতবিনিময় চলছে।
৪১টি রাজনৈতিক দলের ১৫০ জন শীর্ষ নেতার উপস্থিতি
ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে অংশ নেওয়া ৪১টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রায় ১৫০ জন শীর্ষ নেতাকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উপস্থিত দল ও জোটগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
গণতন্ত্র মঞ্চ
-
১২ দলীয় জোট
-
সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট
-
গণতান্ত্রিক বাম জোট
-
ইসলামী ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং আন্দোলন পরিচালনায় গঠিত লিয়াঝোঁ কমিটির শীর্ষ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।







