লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে ১৭৪ বাংলাদেশি মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন
 

 

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ বাংলাদেশি মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন: মানবপাচারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ারের অনুরোধ

লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা এবং ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকা ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) বিশেষ সহযোগিতায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে লিবিয়ার বুরাক এয়ারের (Burak Air) একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইওএম ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় এই বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়।

ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফিরে আসা বাংলাদেশিদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান।

সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার করুণ পরিণতি: অপহরণ ও নির্যাতন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রত্যাবাসনকৃত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইউরোপে (বিশেষ করে ইতালি) যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সেখানে তারা লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে ডিটেনশন সেন্টারে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।

ফিরে আসা অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা লিবিয়ায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের হাতে অপহরণ ও নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফিরে আসা এসব নাগরিকদের তাঁদের জীবনের এই দুর্বিষহ ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সমাজ তথা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আইওএম-এর পক্ষ থেকে সহায়তা

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, লিবিয়া থেকে ফিরে আসা প্রত্যেকেই আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পক্ষ থেকে জরুরি নগদ আর্থিক সহায়তা (পথখরচা), প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাদের জরুরি প্রয়োজন, তাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনও অনেক বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন। তাদের নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top