আগামীকালই সই হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি- ট্রাম্পের নতুন বার্তা
 

 

আগামীকালই সই হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি, হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা

বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা অবসানের লক্ষ্যে বহুল প্রতিক্ষিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিটি আগামীকাল রবিবারই (১৪ জুন ২০২৬) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া একাধিক নতুন ও চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, চুক্তিটি সই হওয়ার পর মুহূর্ত থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

ভূগর্ভের পারমাণবিক ধুলাবালি সংগ্রহ করবে মার্কিন বাহিনী

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের অন্য একটি পোস্টে চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত হলে মার্কিন কারিগরি দল ইরানে প্রবেশ করবে। সেখানে এর আগে মার্কিন বি-২ (B-2 Stealth Bomber) বোমারু বিমানের ভারী হামলায় ধ্বংস হওয়া এবং ভূগর্ভে চাপা পড়ে যাওয়া পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর তেজস্ক্রিয় ধুলাবালি ও উপাদান সশরীরে সংগ্রহ করা হবে।

সংগৃহীত সেই তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিম্নমাত্রার বা অকার্যকর উপাদানে রূপান্তর করে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা হবে। এই ধ্বংসকরণ প্রক্রিয়াটি সুবিধাজনক স্থান বিবেচনা করে ইরানে অথবা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্পন্ন হতে পারে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “আমরা ভবিষ্যতে একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরান এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে কাজ করার গভীর প্রত্যাশা করি।”

সহজ সমাধান না হলে ‘চূড়ান্ত বিকল্পের’ হুঁশিয়ারি

সমগ্র চুক্তি ও শান্তি প্রক্রিয়াটি যেন কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সফল হয়, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি আন্তরিকভাবে আশা করি এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত, সহজ ও মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে।”

তবে একই সঙ্গে ইরানকে পরোক্ষ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প তাঁর পোস্টের শেষে যোগ করেন, “যদি কোনো কারণে এই শান্তি প্রক্রিয়া মসৃণভাবে কাজ না করে, তবে আমাদের কাছে টেবিলের ওপর ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ (Ultimate Option) প্রস্তুত রয়েছে। যদিও আমি মনে-প্রাণে আশা করি যে সেই বিকল্পটি আমাদের আর কখনোই ব্যবহার করতে হবে না।”

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ মূলত ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সামরিক শক্তি বা পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহারের দিকেই ইঙ্গিত করে। তবে আপাতত কালকের চুক্তির দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top