দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। সোমবার (১১ মে ২০২৬) সচিবালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই ঘোষণা দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি।”
সেতুটি নির্মাণের যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী জানান যে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ আরও সহজ হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, সেতুর জন্য বর্তমানে তিনটি ভিন্ন প্রস্তাবনা বিবেচনায় রয়েছে, যার মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটটি এক নম্বর অগ্রাধিকার হিসেবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্থাৎ ‘সম্ভাব্যতা যাচাই’ (Feasibility Study) সম্পূর্ণ হয়েছে।
বর্তমানে সরকার এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থায়নের উৎস নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য প্রাথমিক ও প্রাক-প্রস্তুতিমূলক কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, বর্তমান ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে, যা ২০২২ সালে উদ্বোধনের পর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।







