রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মারধরের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে এই সংঘর্ষে ডাকসুর দুই সম্পাদক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রার্থী হওয়া আবদুল্লাহ আল মাহমুদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেছেন। এই অভিযোগে জিডি করতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা থানায় গেলে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা মাহমুদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
আহত ও হাসপাতালের চিত্র:
সংঘর্ষে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি ও সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ছাত্রদলের হামলার শিকার হন। আহত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা হলেন— তানজিম, দেবাশিষ, আলবি, সিফাত ও খালিদ। রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে তাদের হাসপাতালে আনা শুরু হয়।
পাল্টাপাল্টি দাবি:
অভিযুক্ত শিবির নেতা আবদুল্লাহ আল মাহমুদের দাবি, জাইমা রহমানকে নিয়ে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ছিল ভুয়া এবং তিনি সেটি নিয়ে জিডি করতেই থানায় গিয়েছিলেন। অন্যদিকে ছাত্রদল নেতাদের দাবি, শিবির পরিকল্পিতভাবে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। ঘটনার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘শিবিরের জার্নালিজম, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ এবং ‘রাজাকারের ঠিকানা, এ বাংলায় হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।







