দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৮ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৩ হাজার ৭০৯টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দ্রুত অবনতিশীল এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৮৫ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১৩ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হলেও, সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় গত ২৪ ঘণ্টার তথ্যে, যেখানে একদিনেই সন্দেহজনক হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও সীমাবদ্ধতা:
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার অভাব এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এই হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকাগুলোতে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দ্রুত এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকায় জরুরি টিকাদান (এমআর ভ্যাকসিনেশন) কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে।







