ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামী ভারতে ফয়সাল ও আলমগীর জেল হাজতে, জামায়াত ও বিএনপিকে দোষ দিয়ে দায় অস্বীকার

ঢাকা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে পুলিশি রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালত তাঁদের ১২ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তের বনগাঁ এলাকা থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। ১৪ দিনের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ (রিমান্ড) শেষে আজ তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে আসামির বক্তব্য:

আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ চিৎকার করে বলেন, “আমি এই কাজ করিনি। এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।” তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

তদন্তকারী সংস্থা এসটিএফ-এর ভাষ্য:

আসামি আদালতে দায় অস্বীকার করলেও পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে ভিন্ন তথ্য। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় যে মোটরসাইকেলে করে এসে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল, তাতে এই ফয়সাল ও আলমগীরই ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ও আইনি প্রক্রিয়া:

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। এই মামলায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের করা মামলায় তদন্তে উঠে আসে যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা যান।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া:

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই দুর্ধর্ষ আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা ভারতের কারাগারে থাকলেও দুই দেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি বা বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top