শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক যাত্রা; স্পিকার হলেন মেজর (অব.) হাফিজ

দীর্ঘ দেড় যুগের আন্দোলন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আজ শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনে এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংসদের সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

অধিবেশনের শুরুতেই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এটি একটি “জনগণের সংসদ” হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। নিচে এই অধিবেশনের বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো:

গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু

সংসদ ভবন ডেস্ক: অনেক প্রতীক্ষা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ থেকে যাত্রা শুরু করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে স্পিকারের আসন খালি রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। বিরোধীদলীয় নেতার আসনে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

অধিবেশনের প্রথম কার্যসূচি অনুযায়ী, স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বীর বিক্রম ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রস্তাব এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমর্থনের পর সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তাঁরা নির্বাচিত হন। এরপর সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ

স্পিকার নির্বাচনের পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকের এই সংসদ কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। গত দেড় দশক ধরে দেশের মানুষ যে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, আজ তাদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সেই আক্ষেপ ঘুচেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে আমরা এই সংসদকে প্রাণবন্ত করতে চাই।”

অধিবেশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • শোক প্রস্তাব: অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

  • অধ্যাদেশ উত্থাপন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য সংসদে পেশ করেন আইনমন্ত্রী।

  • বিশেষ অতিথি: জুলাই অভ্যুত্থানে নাফিজকে রিকশায় নিয়ে যাওয়া সেই রিকশাচালক নূর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষণ

আজকের অধিবেশনে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) উপস্থিতি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাস এবং সংবিধান সংস্কারের মতো চ্যালেঞ্জিং বিষয়গুলো এই সংসদের কার্যকারিতা প্রমাণের বড় পরীক্ষা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top