ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘অযাচিতভাবে’ লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আবুধাবি। সোমবার (৯ মার্চ) জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আরব আমিরাত এই সংঘাতের অংশ হবে না এবং নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেবে না।
সংবাদটির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
আরব আমিরাতের নিরপেক্ষ অবস্থানের ঘোষণা
রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আগে এবং বর্তমানেও আমিরাতের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—তারা কোনো ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি অভিযানে আমিরাতের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। মূলত ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমিরাত এই নিরপেক্ষতার অবস্থান নিয়েছে।
তুরস্কে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা
তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রচেষ্টাকে ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তুরস্ককে লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের পর ন্যাটোর (NATO) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকি
আমিরাত এই হামলাকে ‘রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর ওপর এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও তুরস্ক এ ধরনের অভিযোগ তুলেছিল, যা ইরান অস্বীকার করেছে। সোমবারের সর্বশেষ হামলার বিষয়েও এখন পর্যন্ত তেহরানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই দ্বিমুখী অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তারা নিজেদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দিতে নারাজ, অন্যদিকে ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের ওপর হামলার ঘটনায় ইরানের কড়া সমালোচনা করছে। এটি মূলত নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রেখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রচেষ্টা।







