ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেন মোজতবা খামেনি; তেহরানে লাখো মানুষের সমর্থন

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। সোমবার (৯ মার্চ) ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়।

এই নিয়োগের মাধ্যমে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে বিরাজমান ভয়াবহ নেতৃত্ব-শূন্যতার অবসান ঘটল। সংবাদের মূল অংশগুলো নিচে দেওয়া হলো:

নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ও জাতীয় ঐক্য

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য (স্ত্রী, কন্যা ও নাতনি) মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর ইরান এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছিল। এই কঠিন সময়ে মোজতবা খামেনির কাঁধে রাষ্ট্রের দায়িত্বভার অর্পণ করায় ইরানের সরকার, প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিশেষজ্ঞ পরিষদের এই সিদ্ধান্তকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও বিভাগের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।

জনসাধারণের সমর্থন ও তেহরানে সমাবেশ

যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও আজ সোমবার রাজধানী তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার ইরানি নাগরিক জড়ো হয়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি তাঁদের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

বিক্ষোভকারীরা নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং নতুন নেতা মোজতবা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে শোক ও শক্তির এক অভূতপূর্ব মিছিল করেন। তাঁরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বস্ততার শপথ নিয়ে নানা স্লোগান দেন।

হামলার প্রেক্ষাপট ও মোজতবার বেঁচে যাওয়া

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন। ওই হামলায় আলী খামেনি নিহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি, যা তাঁকে আজ এই সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার সুযোগ করে দিল। মোজতবা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পর্দার আড়ালের রাজনীতি এবং সামরিক বাহিনীতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ

মোজতবা খামেনির এই উত্থান ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মোজতবাকে তাঁর বাবার উত্তরসূরি হিসেবে আশঙ্কা করে আসছিল। এই নিয়োগের ফলে ইরান হয়তো যুদ্ধের এই কঠিন পরিস্থিতিতে আরও কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করবে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, এই নতুন নেতৃত্বকে কীভাবে গ্রহণ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে এর কী প্রভাব পড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top