ইরানের তেল সম্পদ দখলের পরিকল্পনা মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের; তেহরানের তীব্র প্রতিবাদ

ইরানের তেল সম্পদ দখল এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাত করার বিষয়ে কট্টরপন্থী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বিতর্কিত মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। রোববার (৮ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম দাবি করেছেন, ইরানের সরকার পরিবর্তনের জন্য অর্থ ব্যয় করা একটি ‘সার্থক বিনিয়োগ’ হবে, কারণ এর ফলে বিশ্বের মোট তেলের ৩১ শতাংশের (ইরান ও ভেনেজুয়েলা মিলিয়ে) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।

গ্রাহামের এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংবাদের মূল অংশগুলো নিচে দেওয়া হলো:

গ্রাহামের ‘তেল দখল’ তত্ত্ব ও চীনের দুঃস্বপ্ন

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে যুদ্ধের অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ইরান ও ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের ৩১ শতাংশ তেল মজুদ আছে। এই তেলের মালিকানায় অংশীদারত্ব পাওয়া হবে চীনের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন এবং আমেরিকার জন্য বড় জয়।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ‘মৃত্যুর পথে’ রয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা আরও জোরদার করে তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

ইরানের পাল্টা অভিযোগ: ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ছক’

গ্রাহামের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আসল পরিকল্পনা এখন প্রকাশ্য। তারা ইরানকে বিভক্ত করে তেল সম্পদ লুট করতে চায়। বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অবৈধভাবে ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে জনগণকে পরাজিত করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যে ট্রাম্পকে প্ররোচনা

সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এমন কিছু ‘গোপন গোয়েন্দা তথ্য’ দেখিয়েছেন যা তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামতে প্ররোচিত করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) বারবার বলছে যে, ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো প্রমাণ নেই।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

  • জ্বালানি সংকট: যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

  • উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা: ইরানের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে তেহরান সৌদি আরব, আমিরাত ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে জিসিসি (GCC) দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেছে।

  • পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা: গ্রাহাম ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান ও ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কিউবা। তিনি ‘ফ্রি কিউবা’ ক্যাপ পরে দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে ‘খারাপ লোক’ সরানোর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিনেটর গ্রাহামের এই অকপট স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গণতন্ত্র রক্ষা’র দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধ মূলত জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অর্থনৈতিক লড়াই। অন্যদিকে, ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তি থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে আসা এবং বর্তমান সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top