চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানে জোরপূর্বক কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন বা তথাকথিত ‘কালার রেভল্যুশন’ ঘটানোর চেষ্টা করা হলে তা সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না। রবিবার বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানো উচিত এবং শক্তির ব্যবহার করে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যে সামরিক অভিযান চলছে তা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন, কারণ এই যুদ্ধটি যেমন হওয়ার কথা ছিল না, তেমনি এটি কারও জন্য সুফল বয়ে আনবে না।
ওয়াং ই আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বকে আবার ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না, যেখানে কেবল পেশিশক্তিই প্রধান যুক্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রকৃত মালিক সেখানকার জনগণ এবং তাদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার কেবল তাদেরই থাকা উচিত। তাই বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় চীন। একইসঙ্গে বেইজিং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আগের মতোই অটুট রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।
চীনের এই কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যও সামনে এসেছে। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েও ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো বা ধর্মীয় ক্ষমতা কেন্দ্রগুলোকে পুরোপুরি উৎখাত করা প্রায় অসম্ভব। এই প্রতিবেদনটি মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবিকে দুর্বল করে দিয়েছে, যেখানে তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বদলে নিজের পছন্দের উত্তরসূরি বসানোর কথা বলেছিলেন। বেইজিং এখন আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে মিলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।







