কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার: বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার

বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকার দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক রাজকীয় ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির বার্তা

ইফতারের আগে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ইফতার কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যের প্রতীক।” তিনি তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে কয়েকটি মূল স্তম্ভ তুলে ধরেন:

  • সুশাসন: স্বাধীনতা রক্ষা, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।

  • অর্থনীতি: নারী ক্ষমতায়ন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।

  • বৈশ্বিক সহযোগিতা: জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আহ্বান।

কূটনৈতিক মিলনমেলা

প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তাঁর সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। একই টেবিলে বসা ছিলেন ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতগণ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব ও ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবর উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক দিক

  • আঞ্চলিক ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে দক্ষিণ এশিয়ার (SAARC) দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সরব উপস্থিতি আঞ্চলিক সংহতির বার্তা দেয়।

  • বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি: বক্তব্যে জাতীয় স্বার্থ ও মানবাধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর কৌশল স্পষ্ট হয়েছে।

  • পরিবার ও রাষ্ট্রনীতি: দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রীয় কোনো আনুষ্ঠানিকতায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে সহজ বিনিময় এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top