যুক্তরাষ্ট্রের আদালত কর্তৃক জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর ও বীভৎস তথ্য সংবলিত ফাইলগুলো প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। এই ইস্যু নিয়ে এবার নিজের সুচিন্তিত ও কড়া মন্তব্য প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ‘যৌন কেলেঙ্কারি’ হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, এই ফাইলগুলো আসলে আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার প্রকৃত রূপটিকেই আমাদের সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন যে, এপস্টেইন ফাইল কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি নয়, বরং এটি তথাকথিত উন্নত ও সভ্য বিশ্বের এক ‘বীভৎস দর্পণ’। মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার চটকদার বুলির আড়ালে পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী অংশ কতটা গভীর নৈতিক অবক্ষয়ের অন্ধকারে নিমজ্জিত, এই ফাইলগুলো তারই অকাট্য প্রমাণ। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান যে, যেসব বিশ্বনেতা, শিল্পপতি এবং নামজাদা ব্যক্তিত্বদের মানুষ অনুসরণ ও সম্মান করে, তাঁদের নামের সাথে শিশুপাচার, পাশবিক যৌন নির্যাতন এবং এমনকি মানুষের মাংস ভক্ষণের মতো হাড়হিম করা অভিযোগ আজ জনসমক্ষে।
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, এই অপরাধগুলো কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিক বিকৃতি নয়, বরং এগুলো সুসংগঠিত ‘স্যাটানিক রিচুয়াল’ বা শয়তানি আরাধনার অংশ। তিনি অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমা বিশ্ব সুকৌশলে মুসলমানদের ঈমানি শক্তি ও ধর্মীয় চেতনা নিয়ে উপহাস করে আধ্যাত্মিক ভিত্তি দুর্বল করতে চায়, অথচ তাদের অন্দরমহলে এমন জঘন্য ও অন্ধকার চর্চা বজায় রাখে। তিনি মনে করেন, আল্লাহর ভয়হীন সমাজে যখন সীমাহীন ভোগবাদ ও লাগামহীন ব্যক্তিস্বাধীনতা দেওয়া হয়, তখন মানুষ পশুর চেয়েও অধম স্তরে নেমে যেতে পারে।
পরিশেষে, শায়খ আহমাদুল্লাহ এই ভয়াবহ বাস্তবতার বিপরীতে ইসলামের সুশৃঙ্খল ও পবিত্র জীবনব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেখানে পশ্চিমা সংস্কৃতি পারিবারিক বন্ধন ও লজ্জা-শরমের বিলুপ্তি ঘটাচ্ছে, সেখানে ইসলাম নারী ও শিশুর সুরক্ষা এবং পরিবারের পবিত্রতাকে একটি দুর্গের মতো আগলে রাখে। তিনি পাঠকদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—আমরা কি আধুনিকতার নামে এই ‘শয়তানি সংস্কৃতি’ গ্রহণ করব, নাকি নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির পথে চলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলব?







