২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে প্রসিকিউশন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, ওবায়দুল কাদের ছিলেন মূলত একজন ‘রাজনৈতিক জোকার’, যার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে দলটির পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এ মামলার ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আসামিদের মৃত্যুদণ্ড তথা দৃষ্টান্তমূলক সাজার প্রার্থনা জানান।
“এমন রাজনীতিবিদ যেন দেশে আর জন্ম না নেয়”
ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ শুনানি ও প্রমাণের তথ্য তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন:
-
ব্যক্তিগত ও কমান্ড দায়: জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যা ও নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্তদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ‘ব্যক্তিগত দায়’ (Personal Liability) এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (Superior Command Responsibility) স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
-
সহিংসতায় ইন্ধন: ওবায়দুল কাদের তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর লেলিয়ে দিয়েছিলেন।
-
দৃষ্টান্তমূলক সাজা: চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটের দোহাই দিয়ে দেশে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাজনীতিবিদ ও স্বৈরাচারের জন্ম হতে না পারে, সেজন্য কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
মামলার সাত পলাতক আসামি
আদালত সূত্র জানায়, মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগই রাষ্ট্রপক্ষ তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
মামলার অভিযুক্ত সাতজন আসামি হলেন:
১. ওবায়দুল কাদের — সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)।
২. আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম — যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
৩. মোহাম্মদ আলী আরাফাত — সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।
৪. শেখ ফজলে শামস পরশ — চেয়ারম্যান, যুবলীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)।
৫. মাইনুল হোসেন খান নিখিল — সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ।
৬. সাদ্দাম হোসেন — সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধঘোষিত)।
৭. শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান — সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে মামলার এই সাতজন আসামির সকলেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্ক শুনানি গ্রহণ শেষে মামলাটি যেকোনো দিন রায় ঘোষণার (CAV) জন্য অপেক্ষমাণ রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।







