১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্যই ছিল দেশের মানুষের অধিকার ও শান্তিময় পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শহীদদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন।
শহীদদের ঋণের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্কাউটদের প্রতি আহ্বান
জুলাই বিপ্লবে স্কাউটস সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
-
পরিবর্তন ও মৌলিক অধিকার: জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের উদ্দেশ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন পরিবর্তন আনা, যার মাধ্যমে মানুষের অধিকার ও মৌলিক চাহিদা সুরক্ষিত হবে এবং সবাই শান্তিতে বাঁচতে পারবে।
-
আত্মত্যাগের ঋণ শোধের উপায়: শহীদদের রক্তের ঋণ সরাসরি শোধ করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। কেবল স্মরণ সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, জীবিতদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়াটাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন।
-
প্রকৃতি ও মানুষের পাশে থাকা: বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান যে, সাধারণ মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
১০ শহীদ পরিবারকে সম্মাননা পদক ও অনুদান হস্তান্তর
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগকারী বাংলাদেশ স্কাউটসের ১০ জন শহীদের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা পদক ও আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি নাসিমুল গনি জুলাই অভ্যুত্থানে বীর শহীদদের এই অসামান্য অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে (Curriculum) তাঁদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার সুনির্দিষ্ট দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ড্যাশবোর্ডের মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন এবং স্কাউটসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।







