নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় কালজয়ী চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা চাঞ্চল্যকর মামলায় খলচরিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে বিকেলে ঢাকার নিম্ন আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আজ রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে ডনকে জেলহাজতে আটক রাখার এই আদেশ দেন।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়:
-
পালানোর চেষ্টা ও আটক: চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে আসামি ডনের বিদেশযাত্রায় আদালতের পূর্বনিষেধাজ্ঞা ছিল। রোববার উমরাহ করার উদ্দেশ্যে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ট্র্যাকিং পুলিশ তাঁকে আটক করে। বিষয়টি জানার পর সিআইডির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল তাকে হেফাজতে নেয়।
-
আদালতে আবেদন: বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে আসামি ডনকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। আসামি ডনের জামিন না দিয়ে এবং মামলা তদন্তের স্বার্থে সিআইডি পরিদর্শক আরিফুর রহমান তাকে জেলহাজতে রাখার লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে বলা হয়—আসামি এতদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং তাকে জামিন দেওয়া হলে চিরতরে আত্মগোপন করতে পারেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি ও চাঞ্চল্যকর জবানবন্দির তথ্য
শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।
পিপি ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন:
হত্যাকান্ডের বিবরণ: ঘটনার দিন সালমান শাহর পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় গেলেও স্ত্রী সামিরা হক ভেতরে ঢুকতে দেননি। পরবর্তীতে ওই রাতেই সালমান শাহকে অচেতন করে ঝুলাবার খবর আসে।
অবৈধ সম্পর্ক ও হত্যাচুক্তি: মামলার অন্যতম আসামি রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়—সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরার সঙ্গে আসামি ডনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরে ডন, ফারুক ও রেজভি মিলে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার চুক্তি করেন। তাঁরা প্রথমে জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ককে অচেতন করেন এবং পরবর্তীতে আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেন।
মামলার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ অভিনেতা সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে তদন্ত শেষে বিগত বছরগুলোতে আদালতের নির্দেশে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
-
মামলার এজাহার: সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রামনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
-
মূল আসামিগণ: মামলাটিতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও অভিনেতা ডনকে। এছাড়া লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ সহ মোট ১১ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
-
প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ: বর্তমানে সিআইডির তত্ত্বাবধানে মামলাটির পুনস্তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালত আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।







