২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে রাজধানী থেকে গুম এবং পরবর্তী দুই মাস র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গোপনে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ওই সময়ের শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিক তদন্তের এই অগ্রগতি ও চাঞ্চল্যকর তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শেখ হাসিনার নির্দেশ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যসমূহ:
-
সরাসরি নির্দেশ ও সম্পৃক্ততা: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল। ঘটনার সাথে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এনটিএমসি ও র্যাবের তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ র্যাব ও পুলিশের শীর্ষ কর্তারা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
-
ভারতে পাচারের চক্রান্ত খতিয়ে দেখা: উত্তরা থেকে গুমের পর টানা দুই মাস টিএফআই সেলে গোপন বন্দি রাখার পর তাকে সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে ফেলে আসা ও পাচারের পেছনে কারা যুক্ত ছিল, তাদের তথ্য ও সংশ্লিষ্টতাও বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষ্য ও জবানবন্দি গ্রহণ
মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর জানান:
১. সালাহউদ্দিন আহমদের জবানবন্দি: ঘটনার ভুক্তভোগী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। খুব শীঘ্রই তাঁর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ও লিখিত জবানবন্দি নেওয়া হবে।
২. ইনজীবী সোহেলের সাক্ষ্য: গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট সোহেল তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া তাঁর নিজস্ব জবানবন্দিতে তৎকালীন সময়ে টিএফআই সেলে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে রাখার ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য তুলে ধরেছেন।
ঘটনার পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। এর দীর্ঘ ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে উন্মুক্ত স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সময় স্থানীয় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। দেশে ফিরে তিনি নিজের গুম, নির্যাতন ও ভারতে পাচারের সুবিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চিফ প্রসিকিউটর আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।







